নিকলী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে 'বানুবিবির পালা' মঞ্চায়নের একটি আবেগঘন মুহূর্ত
নাটকের মূল প্রেক্ষাপট ও সারসংক্ষেপ
'বানুবিবির পালা' নাটকটি হাওরাঞ্চলের গ্রামীণ জনপদে নারীর আত্মমর্যাদা, পারিবারিক সংগ্রাম এবং চিরায়ত লোকসংস্কৃতির টানাপোড়েনের এক অনবদ্য দলিল। অষ্টগ্রাম-নিকলী অঞ্চলের শতবর্ষের লোকগাথার ওপর ভিত্তি করে রচিত এই আখ্যানে বানুবিবির চরিত্রটি একদিকে যেমন শোষিত নারীর প্রতীক, অন্যদিকে সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর।
হাওরের অকাল বন্যা, জীবিকার অনিশ্চয়তা এবং পিতৃতান্ত্রিক সমাজের শৃঙ্খলে বন্দী থেকেও বানুবিবি কীভাবে তার পরিবার ও ভালোবাসাকে আগলে রাখতে লড়াই করে, তারই চিত্র নাটকে লোকসঙ্গীত, জারি-সারি ও আধুনিক নাট্যভাষার সমন্বয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
“বানুবিবির পালা কেবল একটি অতীত কাহিনির মঞ্চায়ন নয়; এটি আমাদের হাওরপারের প্রতিটি সংগ্রামী মায়ের, বোনের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। লোকনাট্যের শক্তির মধ্য দিয়ে আমরা চেয়েছি বর্তমান প্রজন্মকে তাদের শিকড়ের সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে।”
মঞ্চায়ন ও নিরীক্ষাধর্মী নির্দেশনা
নাটকটির নির্দেশনায় আধুনিক থিয়েটারের আলোকসম্পাত ও দেশজ পালাগানের শারীরিক ভাষার এক চমৎকার মেলবন্ধন ঘটানো হয়। মঞ্চে অতিরিক্ত আড়ম্বর পরিহার করে বাঁশ, পাটের দড়ি ও লোকজ বাদ্যযন্ত্র (ঢোল, মন্দিরা, দোতারা) ব্যবহারের মাধ্যমে হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ জীবন্ত করে তোলা হয়েছিল।
১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ বিজয় দিবসের সন্ধ্যায় নিকলী অডিটোরিয়ামে প্রথম মঞ্চায়নেই নাটকটি সর্বস্তরের দর্শকদের অশ্রুসজল ও আবেগাপ্লুত প্রশংসায় সিক্ত হয়।
কুশীলব ও কলাকুশলী
মঞ্চের নির্বাচিত মুহূর্তসমূহ