ভাটি অঞ্চলের প্রাচীন বাউল ও ঘাটুগানের সুর সন্ধানে মাঠসমীক্ষা
হাওর ও ভাটি অঞ্চলের বাতাস যেন সুর দিয়ে গড়া। এককালে এই বিস্তীর্ণ জনপদের ঘাটে ঘাটে রাতভর গাইতো ঘাটুগানের দল, উঠোনে উঠোনে নারীরা হাততালি দিয়ে গাইতেন রাধারমণ আর বাউল শাহ আব্দুল করিমের ধামাইল। কিন্তু গত দুই দশকে আধুনিকতার আকস্মিক আগ্রাসনে এই লোকসুরগুলো বিস্মৃতির অতল গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে।
বাদ্যযন্ত্র ও কারিগরদের নিঃস্বতা
দোতারা, সারিন্দা, খমক আর মন্দিরা তৈরি করার দক্ষ কারিগররা এখন হাওর এলাকায় প্রায় নেই বললেই চলে। ইলেকট্রনিক কিবোর্ড আর অটোটিউনের যুগে মাটির গন্ধমাখা সুর চর্চার মানুষ কমে যাচ্ছে। প্রবীণ শিল্পীরা বিনা চিকিৎসায় আর অবহেলায় নীরবে মৃত্যুবরণ করছেন, আর তাদের সাথেই চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য অপ্রকাশিত পদের সুর।
ডিজিটাল আর্কাইভ ও তরুণ গবেষকদের করণীয়
এখনই যদি আমরা মাঠপর্যায়ে গিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে এই প্রবীণ বাউল ও ঘাটুগায়কদের কণ্ঠ ডিজিটাল অডিওতে রেকর্ড না করি, তবে আগামী প্রজন্ম কোনোদিনই জানতে পারবে না হাওরের নিজস্ব সংগীত দর্শন কতটা ঋদ্ধ ছিল। এই দায় কেবল সরকারের নয়, আমাদের মতো তরুণ সংস্কৃতিকর্মী ও গবেষকদেরও।