গ্রামের সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জলজ থিয়েটারের মুক্তমঞ্চ পরিবেশনা
থিয়েটার কি শুধুই সুসজ্জিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলের ভেতরে টিকিট কেটে আসা ভদ্রবিত্ত সমাজের ড্রয়িংরুম বিনোদন? এই প্রশ্নটি বহু বছর ধরে আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। থিয়েটারের উৎপত্তি তো হয়েছিল খোলা প্রান্তরে, ফসলের মাঠে, শিকারের অবসরে মানুষের সমবেত উল্লাস ও প্রার্থনার মাধ্যমে।
শিকড়ে ফেরা: জলজ থিয়েটারের জন্ম
কিশোরগঞ্জের হাওরপাড়ের উপজেলা নিকলীতে যখন আমরা ‘জলজ থিয়েটার’ গড়ার উদ্যোগ নিই, তখন প্রথম উদ্দেশ্যই ছিল নাটককে মানুষের দুয়ারে নিয়ে যাওয়া। যে কৃষক সারাদিন কাদামাটিতে ধান বুনে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরে, যে নারী গৃহস্থালি কাজের ফাঁকে একটু স্বস্তির নিশ্বাস খুঁজতে চায়—নাটকের ভাষা হতে হবে তাদের মুখের ভাষা, তাদের দুঃখ ও প্রতিবাদের রূপক।
প্রতিবাদের ভাষা ও মঞ্চায়ন
আমাদের প্রযোজনায় যখন মহাজনদের শোষণ, নদীভাঙন, নারীর অবমূল্যায়ন কিংবা বাল্যবিয়ে রোধের কথা উঠে আসে, তখন দর্শক কেবল তাকিয়ে থাকে না—তারা চোখের জল ফেলে, করতালিতে সমর্থন জানায়। কারণ তারা মঞ্চে অন্য কাউকে নয়, নিজেদের মুখচ্ছবি দেখতে পায়।
থিয়েটার যখন সাধারণ মানুষের মুক্তির আকুলতাকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করতে পারে, তখনই থিয়েটার তার সত্যিকারের সার্থকতা খুঁজে পায়। নাটক কেবল আনন্দ দেয় না—সমাজকে নিজের ভেতর তাকিয়ে প্রশ্ন করার সাহস জোগায়।