নিকলীর করয়াপাড়ায় পাঠাগারের বই হাতে উচ্ছ্বসিত গ্রামীণ কিশোর-কিশোরীরা
একটি ভালো বই কীভাবে একটি কিশোরের পুরো জীবনকে বদলে দিতে পারে, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি নিকলীর করয়াপাড়ায় ‘নজরুল ইসলাম খান স্মৃতি গণ পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করার দিনগুলোতে। স্মার্টফোনের নীল আলোর মোহ আর পাবজি-ফ্রিফায়ারের নেশার মাঝেও যখন একটি ছেলে এসে বইয়ের পাতা ওল্টায়, তখন মনে হয় আমাদের শ্রম বৃথা যায়নি।
শূন্য থেকে শুরু
মাত্র ৫০টি বই আর একটি কাঠের বুকশেলফ নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। অনেকে হেসেছিল, বলেছিল হাওরের ছেলেরা মাছ ধরে, ধান কাটে—ওরা বই পড়ে কী করবে? আজ সেই পাঠাগারে দুই হাজারের বেশি বই রয়েছে, রয়েছে বিজ্ঞান ও সাহিত্যের নিয়মিত আড্ডা।
গ্রামীণ জাগরণ
পাঠাগার কেবল বই পড়ার জায়গা নয়, এটি একটি এলাকার মুক্তচিন্তা ও মননশীলতার বাতিঘর। যে সমাজে বইয়ের পাঠক বাড়ে, সে সমাজে অসহিষ্ণুতা ও গোঁড়ামি নিজে থেকেই পরাস্ত হয়। প্রতিটি গ্রামে এমন একটি করে গণপাঠাগার গড়ে তোলাই আমাদের জীবনের আজীবন স্বপ্ন।